শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়: বাংলা ছোটগল্পের এক অনন্য নির্মাতা

December 04

বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়: বাংলা ছোটগল্পের এক অনন্য নির্মাতা

বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্প ধারায় যে ক’জন সাহিত্যিক অমর হয়ে আছেন, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় তাঁদের অন্যতম। মানবজীবনের সহজ-সরল অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা এবং অনুভূতির সূক্ষ্ম স্পর্শকে তিনি এমন স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে পাঠক মনে করেন— গল্প যেন তাঁরই জীবনের অংশ। ১৮৯৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়। শৈশবে সাহিত্যচর্চার প্রতি তাঁর অনুরাগ পরবর্তীতে লেখকজীবনের ভিত গড়ে দেয়। শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিতে যুক্ত হলেও সাহিত্যই হয়ে ওঠে তাঁর প্রকাশের ক্ষেত্র। প্রথমদিকে বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর রচনা প্রকাশিত হতে থাকে, সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।<br /><br />বিভূতিভূষণের লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মানবিকতা। তাঁর চরিত্রগুলো সাধারণ মানুষ— যাদের সুখ, দুঃখ, সংকট আর আশা-নিরাশা পাঠককে ছুঁয়ে যায়। ভাষা ছিল সহজ, কিন্তু অনুভব ছিল গভীর। ছোট ছোট ঘটনা, পারিবারিক টানাপড়েন, সামাজিক বৈপরীত্য— সবই তাঁর গল্পে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে চোরাবালি, অপরাজিতা, মনতরী, জলসাঘরসহ অসংখ্য গল্প ও উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে এক নতুন স্বাদ এনে দেয়। কখনো ব্যঙ্গ, কখনো হালকা রস, আবার কখনো গভীর বিষাদ— সব ধরনের আবেগই তাঁর লেখায় মিশে থাকে স্বাভাবিকতার সঙ্গে।<br /><br />গ্রামীণ জীবন, মধ্যবিত্ত সমাজ, ভাঙন, প্রেম-বিরহ, নৈতিক দ্বন্দ্ব— এসবই বারবার উঠে এসেছে তাঁর রচনায়। তিনি সাধারণ মানুষের গল্প লিখলেও সেই গল্পের ভেতরেই থাকে সার্বজনীন মানবিকতার সুর, যা সময়কে অতিক্রম করেও পাঠকের হৃদয়ে অনুরণিত হয়। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের পরে ১৯৫৮ সালের ২৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর সাহিত্য এখনো ততটাই প্রাসঙ্গিক, ততটাই জীবন্ত। তাঁর গল্প পড়লে মনে হয়— মানুষ, সমাজ আর অনুভূতির যে জটিলতা তিনি দেখেছিলেন, তা আজও অমলিন। বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় শুধুই একজন লেখক নন; তিনি বাংলা ছোটগল্পের স্থপতি, যিনি মানবজীবনের রূপ-রস-গন্ধকে অনন্য ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলে বাংলা সাহিত্যের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন।