শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

বাংলা ব্যাকরণে সমাস: গঠন, প্রকারভেদ ও গুরুত্ব

January 08

বাংলা ব্যাকরণে সমাস: গঠন, প্রকারভেদ ও গুরুত্ব

বাংলা ব্যাকরণে সমাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষায় বহুল আলোচিত বিষয়। ভাষাকে সংক্ষিপ্ত, অর্থবহ ও প্রাঞ্জল করার ক্ষেত্রে সমাসের ভূমিকা অপরিসীম। একাধিক শব্দকে একত্র করে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াই হলো সমাস। বাংলা সাহিত্যে ও দৈনন্দিন ভাষায় সমাসের ব্যবহার ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যায়। যখন দুই বা ততোধিক শব্দ মিলিত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠন করে এবং সেই শব্দ দ্বারা একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ পায়, তখন তাকে সমাস বলা হয়।<br />যেমন: রাজা + পুত্র = রাজপুত্র, জল + পদ্ম = জলপদ্ম। এখানে একাধিক শব্দ মিলিত হয়ে একটি শব্দে পরিণত হয়েছে এবং নতুন অর্থ সৃষ্টি করেছে।<br /><br />সমাসের প্রধান উদ্দেশ্য হলো: ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করা, বক্তব্যকে সুন্দর ও অর্থবহ করা, অপ্রয়োজনীয় শব্দ পরিহার করা। <br /><br />বাংলা ব্যাকরণে সমাস সাধারণত ৬ প্রকার:<br />১. দ্বন্দ্ব সমাস: যে সমাসে পূর্ব ও পর শব্দ উভয়ই সমান গুরুত্ব বহন করে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। উদাহরণ: দিন + রাত = দিনরাত, সুখ + দুঃখ = সুখদুঃখ<br /><br />২. তৎপুরুষ সমাস: যে সমাসে পরপদ প্রধান এবং পূর্বপদ গৌণ হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। উদাহরণ: রাজা + আদেশ = রাজাদেশ, দেশ + প্রেম = দেশপ্রেম<br /><br />৩. কর্মধারয় সমাস: যে সমাসে পূর্বপদটি পরপদের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। উদাহরণ: নীল আকাশ = নীলাকাশ, মহৎ ব্যক্তি = মহাপুরুষ<br /><br />৪. বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে গঠিত শব্দটি নিজের অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কিছুকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। উদাহরণ: দশ আনন যার = দশানন (রাবণ), নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ (শিব)<br /><br />৫. অব্যয়ীভাব সমাস: যে সমাসে অব্যয় পদ প্রধান ভূমিকা পালন করে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। উদাহরণ: যথা + নিয়ম = যথানিয়ম, উপরে + উঠে = উপরেউঠে<br /><br />৬. দ্বিগু সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ সংখ্যা নির্দেশ করে, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। উদাহরণ: তিন + ভুবন = ত্রিভুবন, সাত + সাগর = সপ্তসাগর<br /><br />সমাস বাংলা ভাষার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, সাহিত্যিক ভাষা গঠনে সহায়তা করে, পরীক্ষায় ব্যাকরণ অংশে গুরুত্বপূর্ণ নম্বর বহন করে, শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে। সমাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে বাংলা ভাষার গঠন ও প্রয়োগ সহজে বোঝা যায়।