September 30
বাংলা ব্যাকরণে বাচ্য বলতে ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়াভাবের যে সম্পর্ক প্রকাশ পায়, তাকে বোঝায়। বাক্যে ক্রিয়ার প্রধান ভূমিকা এবং কর্তা বা কর্মের অবস্থান অনুযায়ী বাচ্য মূলত তিন প্রকার—কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য। বাংলা ভাষায় বাক্যের অর্থ ও গঠন স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে বাচ্যের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।<br /><br />যে বাক্যে কর্তার প্রাধান্য থাকে এবং কর্তা নিজেই ক্রিয়াটি সম্পাদন করে, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। যেমন—“রাহিম বই পড়ে।” এখানে ‘রাহিম’ কর্তা এবং তার দ্বারাই ‘পড়া’ কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে। তাই বাক্যটি কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ। সাধারণ কথাবার্তা ও লেখালেখিতে কর্তৃবাচ্যের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।<br /><br />যে বাক্যে কর্তার পরিবর্তে কর্মের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং কর্মকে কেন্দ্র করে ক্রিয়া প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যেমন—“রাহিমের দ্বারা বইটি পড়া হয়।” এখানে ‘বইটি’ কর্ম এবং বাক্যে কর্মের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণত কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে পরিবর্তন করে কর্মবাচ্যে প্রকাশ করা যায়।<br /><br />অন্যদিকে, যে বাক্যে কোনো নির্দিষ্ট কর্তার পরিবর্তে কাজ বা ক্রিয়ার ভাবই প্রধান হয়ে ওঠে, তাকে ভাববাচ্য বলে। যেমন—“এখন পড়া হবে।” এখানে কে পড়বে তা নির্দিষ্ট নয়; বরং ‘পড়া’ কাজটির ভাবই প্রকাশ পেয়েছে। ভাববাচ্যে কর্তার তুলনায় ক্রিয়ার ভাব বা কাজের সংঘটনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।<br /><br />অতএব, কর্তৃবাচ্যে কর্তা, কর্মবাচ্যে কর্ম এবং ভাববাচ্যে ক্রিয়ার ভাব প্রধান হয়ে ওঠে। বাংলা বাক্যের অর্থ, গঠন ও প্রকাশভঙ্গি বিশ্লেষণে এই তিন ধরনের বাচ্যের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে বাচ্য প্রয়োগ করতে পারলে ভাষার বক্তব্য আরও সুস্পষ্ট, সাবলীল ও অর্থবহ হয়।