July 20
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি মানুষের আবেগ, উত্তেজনা ও অপেক্ষার নাম। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী আসর। এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় এবং তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—যৌথভাবে এই মেগা টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এই আসর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে অসংখ্য নাটকীয় ম্যাচ, নতুন তারকার উত্থান এবং ঐতিহাসিক সব মুহূর্ত।<br /><br />২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় ৪৮টি দেশ। দলগুলোকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি গ্রুপে ছিল ৪টি করে দল। গ্রুপপর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল নকআউট পর্বে ওঠে। ফলে প্রথমবারের মতো রাউন্ড অব ৩২ অনুষ্ঠিত হয়, যা টুর্নামেন্টকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও রোমাঞ্চকর করে তোলে। বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই কিছু দল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেলে সবাইকে অবাক করে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মরক্কো, নরওয়ে, কেপ ভার্দে এবং অন্যান্য কয়েকটি দল শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। অন্যদিকে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী দল প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি।<br /><br />ফাইনাল: স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা–<br />১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয় ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন। নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারলেও অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস (Ferran Torres) গোল করে স্পেনকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে স্পেন এবং দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নেয়।<br /><br />এই বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও বেশ কয়েকজন ফুটবলার আলোচনায় ছিলেন। স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি (Rodri) অসাধারণ নেতৃত্ব ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পান। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট জেতেন। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন এবং তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সিও ব্যক্তিগত পুরস্কার অর্জন করেন।<br /><br />২০২৬ বিশ্বকাপ শুধুই ফুটবলের জন্য নয়, বিভিন্ন বিতর্কের কারণেও আলোচনায় ছিল। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ম্যাচ চলাকালে হাইড্রেশন বিরতি, উন্নত প্রযুক্তির বল ও VAR ব্যবহারের সিদ্ধান্ত, টিকিটের উচ্চ মূল্য এবং কিছু রাজনৈতিক ইস্যু বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। তবুও মাঠের লড়াই এবং দর্শকদের উন্মাদনা বিশ্বকাপকে সফল করে তোলে। এই আসর শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ৪৮ দলের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের বিশ্বকাপকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। ছোট দলগুলোর সাহসী পারফরম্যান্স, নতুন তারকাদের উত্থান এবং স্পেনের দুর্দান্ত সাফল্য ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে।