July 13
ভাষার প্রধান কাজ হলো মনের ভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা। কিন্তু বাক্য গঠনে ব্যাকরণগত বা অর্থগত ভুল থাকলে সেই ভাব সঠিকভাবে প্রকাশ পায় না। এ ধরনের ভুলকে বাক্যদোষ বলা হয়। শুদ্ধ ও প্রমিত বাংলা ভাষায় কথা বলা, লেখা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য বাক্যদোষ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।<br /><br />বাক্যদোষ কী?<br />যখন কোনো বাক্যে ব্যাকরণগত, শব্দগত, অর্থগত বা রীতিগত ত্রুটি থাকে এবং বাক্যের স্বাভাবিক অর্থ বা সৌন্দর্য নষ্ট হয়, তখন তাকে বাক্যদোষ বলে।<br />অর্থাৎ, যে কারণে একটি বাক্য শুদ্ধ, স্পষ্ট বা গ্রহণযোগ্য থাকে না, সেই ত্রুটিই বাক্যদোষ।<br /><br />বাক্যদোষের প্রকারভেদ ও উদাহরণ: বাংলা ভাষায় সাধারণত নিচের কারণগুলোতে বাক্যদোষ দেখা যায়—<br />১. শব্দপ্রয়োগজনিত দোষ: যখন শব্দের ভুল নির্বাচন বা অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহারের কারণে বাক্য অশুদ্ধ হয়।<br />অশুদ্ধ: সে পুনরায় আবার ফিরে এসেছে।<br />শুদ্ধ: সে আবার ফিরে এসেছে। অথবা সে পুনরায় এসেছে।<br /><br />২. ক্রিয়াজনিত দোষ: ক্রিয়া কর্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে এ ধরনের দোষ হয়।<br />অশুদ্ধ: ছেলেরা মাঠে খেলছে না ছিল।<br />শুদ্ধ: ছেলেরা মাঠে খেলছিল না।<br /><br />৩. কারকজনিত দোষ: কারক বিভক্তির ভুল ব্যবহারে বাক্যদোষ সৃষ্টি হয়।<br />অশুদ্ধ: আমি তাকে দিয়ে বই পড়ি।<br />শুদ্ধ: আমি তার কাছ থেকে বই পড়ি।<br /><br />৪. বচনজনিত দোষ: একবচন ও বহুবচনের অসামঞ্জস্য থাকলে বচনজনিত দোষ হয়।<br />অশুদ্ধ: সব ছাত্র উপস্থিত ছিল।<br />শুদ্ধ: সব ছাত্র উপস্থিত ছিল। অথবা সব ছাত্ররা উপস্থিত ছিল। (এখানে "সব" থাকলে "রা" অপ্রয়োজনীয়।)<br /><br />৫. লিঙ্গজনিত দোষ: লিঙ্গ অনুযায়ী শব্দ বা ক্রিয়া ব্যবহার না করলে এই দোষ হয়।<br />অশুদ্ধ: মেয়েটি খুব বুদ্ধিমান ছেলে।<br />শুদ্ধ: মেয়েটি খুব বুদ্ধিমতী।<br /><br />৬. অর্থগত দোষ: বাক্যের অর্থ অসংগত বা পরস্পরবিরোধী হলে অর্থগত দোষ হয়।<br />অশুদ্ধ: তিনি জীবিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।<br />শুদ্ধ: তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।<br /><br />৭. অপ্রয়োজনীয় পুনরুক্তিজনিত দোষ: একই অর্থের শব্দ বারবার ব্যবহার করলে বাক্যদোষ হয়।<br />অশুদ্ধ: নিজ চোখে স্বচক্ষে দেখেছি।<br />শুদ্ধ: নিজ চোখে দেখেছি। অথবা স্বচক্ষে দেখেছি।<br /><br />৮. বিদেশি ভাষার প্রভাবজনিত দোষ: ইংরেজি বা অন্য ভাষার বাক্যরীতির সরাসরি অনুকরণে এ ধরনের ভুল হয়।<br />অশুদ্ধ: আমি তাকে ফোন ব্যাক করব।<br />শুদ্ধ: আমি তাকে পরে ফোন করব।<br /><br />বাক্যদোষ সংশোধনের উপায়: বাক্য শুদ্ধ করার জন্য কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা উচিত—<br />প্রমিত বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলা।<br />অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার না করা।<br />কর্তা ও ক্রিয়ার মিল রাখা।<br />সঠিক কারক ও বিভক্তি ব্যবহার করা।<br />শব্দের যথাযথ অর্থ জেনে ব্যবহার করা।<br />বিদেশি ভাষার প্রভাব এড়িয়ে চলা।<br />নিয়মিত শুদ্ধ বাংলা বই ও সংবাদপত্র পড়া।<br />বাক্যদোষ চিহ্নিত করার কৌশল<br /><br />শুদ্ধ ভাষা ব্যবহারের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বাক্যদোষ সম্পর্কে সচেতন থাকা। একটি ছোট ভুলও বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। তাই বাংলা ভাষার সৌন্দর্য বজায় রাখতে বাক্যদোষের ধরন ও সংশোধনের নিয়ম নিয়মিত অনুশীলন করা উচিত। শুদ্ধ বাক্য দৈনন্দিন যোগাযোগেও একজন মানুষের ভাষাগত দক্ষতার পরিচয় বহন করে।