শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

“গুয়ানতানামো” বন্দিশালা: বিতর্ক, মানবাধিকার ও বিশ্বরাজনীতি

January 08

“গুয়ানতানামো” বন্দিশালা: বিতর্ক, মানবাধিকার ও বিশ্বরাজনীতি

“গুয়ানতানামো বন্দিশালা” বলতে সাধারণত গুয়ানতানামো বে ডিটেনশন ক্যাম্পকে বোঝানো হয়, যা কিউবার গুয়ানতানামো উপসাগরে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক আটককেন্দ্র। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে এই বন্দিশালাটি প্রতিষ্ঠা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসবাদে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা।<br /><br />২০০২ সালের জানুয়ারিতে প্রথম বন্দিদের গুয়ানতানামো বন্দিশালায় আনা হয়। এখানে মূলত আল-কায়েদা, তালেবান ও অন্যান্য চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সরকার অনেক বন্দিকে “শত্রু যোদ্ধা” (Enemy Combatant) হিসেবে চিহ্নিত করে, যার ফলে তারা প্রচলিত বেসামরিক আদালত বা যুদ্ধবন্দি সংক্রান্ত জেনেভা কনভেনশনের পূর্ণ সুরক্ষা পায়নি- এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।<br /><br />গুয়ানতানামো বন্দিশালা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত। দীর্ঘদিন বিচার ছাড়াই আটক রাখা, কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংস্থা এই বন্দিশালাকে “মানবাধিকারের কালো অধ্যায়” হিসেবে আখ্যা দেয়।<br /><br />মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও গুয়ানতানামো বন্দিশালা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও আইনি, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে সম্পূর্ণভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্দির সংখ্যা কমলেও বন্দিশালাটি এখনো আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মানবাধিকার আলোচনায় একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।<br /><br />সবশেষে বলা যায়, গুয়ানতানামো বন্দিশালা শুধু একটি আটককেন্দ্র নয়; এটি আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের মধ্যকার সংঘাতের প্রতীক। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের বাস্তবতা ও মানবিক মূল্য- এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে গুয়ানতানামো আজও বিশ্ববাসীকে ভাবিয়ে তোলে।