January 08
বাংলাদেশের জাতীয় কবি হলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা, যিনি “বিদ্রোহী কবি” নামে সমধিক পরিচিত। তাঁর সাহিত্যকর্মে বিদ্রোহ, মানবতা, সাম্য, প্রেম ও ধর্মীয় সম্প্রীতির শক্তিশালী প্রকাশ দেখা যায়। শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল আপসহীন, যা তাঁকে বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।<br /><br />কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্যের মধ্যেই তাঁর শৈশব কাটে। অল্প বয়সেই তিনি বিভিন্ন কাজে যুক্ত হন এবং লেটোর দলে গান রচনা ও অভিনয়ের মাধ্যমে সাহিত্যচর্চার সূচনা করেন। পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন, যা তাঁর চিন্তা ও লেখায় গভীর প্রভাব ফেলে।<br /><br />নজরুল ইসলামের সাহিত্যজীবন ছিল বহুমাত্রিক। তিনি কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ বাংলা কবিতায় এক নতুন যুগের সূচনা করে। এ ছাড়া ‘অগ্নিবীণা’, ‘সাম্যবাদী’, ‘সর্বহারা’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থে শোষিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি প্রায় চার হাজার গান রচনা করেন, যা আজ নজরুলগীতি নামে পরিচিত। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবতাবাদ ছিল নজরুলের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি ইসলামি সংগীত ও শ্যামাসংগীত--উভয় ধারায় সমান দক্ষতার সঙ্গে গান রচনা করেন, যা বাঙালি সংস্কৃতিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর লেখনীতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বার্তা বারবার প্রতিফলিত হয়েছে।<br /><br />১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে ঢাকায় এনে জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করে। জীবনের শেষ ভাগে তিনি বাকরুদ্ধ অবস্থায় থাকলেও তাঁর সাহিত্য আজও সমানভাবে জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি ইন্তেকাল করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
December 29
December 23