December 04
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত সংরক্ষণ পদ্ধতি যেমন শুকানো, ফ্রিজে রাখা বা কেমিক্যাল ব্যবহার প্রায়শই সীমিত কার্যকারিতা বা স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। এই সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি হিসেবে উদ্ভাসিত হচ্ছে UV-C প্রযুক্তি। UV-C হলো আলোকের এমন একটি অংশ, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ২০০–২৮০ ন্যানোমিটার। এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম। খাদ্য পণ্যে UV-C প্রয়োগ করলে সংরক্ষণের মেয়াদ বৃদ্ধি পায় এবং কোনো রাসায়নিক ছাড়া খাদ্যকে নিরাপদ রাখা যায়। বিশেষ করে ফলমূল, শাকসবজি, দুধ, মাংস ও মাছের মতো তাজা খাদ্যে UV-C প্রযুক্তি প্রয়োগ করলে পচন, ফাঙ্গাল সংক্রমণ ও ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।<br /><br />বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে অনেক সুবিধা সম্ভাব্য:<br />খাদ্য অপচয় হ্রাস: ফসলের অতিরিক্ত উৎপাদন দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।<br />সাস্থ্যকর খাদ্য: কোনো কেমিক্যাল ছাড়াই জীবাণুমুক্ত খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব।<br />রপ্তানির মান বৃদ্ধি: তাজা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর ক্ষেত্রে UV-C প্রযুক্তি মান উন্নয়নে সহায়ক।<br />অর্থনৈতিক সুবিধা: খাদ্য অপচয় কমে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয় বৃদ্ধি পাবে।<br /><br />বর্তমানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে UV-C প্রযুক্তি খাদ্যশিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশেও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা চালাচ্ছে, এবং কয়েকটি স্টার্টআপ এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ শুরু করেছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে UV-C প্রযুক্তি দেশের খাদ্য শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য একটি টেকসই ও বৈপ্লবিক সমাধান হয়ে উঠতে পারে। সংক্ষেপে, UV-C প্রযুক্তি শুধু খাদ্য সংরক্ষণ নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং কৃষি উন্নয়নে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এটি খাদ্য অপচয় কমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করা এবং দেশের কৃষি খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।